সম্পাদকের কলমে

নারায়ণ দেবনাথ- সত্যি বলতে কি একটা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হল। একটা বিশাল বড় অধ্যায়, যেখানে বাবা/ মা, ছেলে/ মেয়ে বা দাদু/দিদা, পিসি, ঠাম্মা সব এক হয়ে গেছিল । চলে গেলেন শরীরের দিক থেকে কিন্তু সারাজীবন রয়ে গেলেন মনে, চোখে আর স্বপ্নে। কার্টুন তাও আবার নিখাদ বাংলা ভাষায়, বাংলা চরিত্র নিয়ে, কিন্তু সেই চরিত্র আবার খুব সাহসী। উনি সাহস দেখিয়েছিলেন বলেই বাংলার ঘরে ঘরে বাঁটুল, হাঁদা-ভোঁদা পৌঁছে গেছে। নারায়ণ দেবনাথ -এর প্রতি #গল্পগুচ্ছ এর পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম । ভাল থাকবেন, যেখনেই থাকবেন। আমরা কিন্তু আপনার দেশেই রয়ে গেলাম । নমস্কার সহ অঙ্কুর রায় সংখ্যার সম্পাদক অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী প্রধান সম্পাদক

লেখা পাঠানোর জন্য

আপনার লেখা পাঠান আমাদেরকে
golpoguccha2018@gmail.com

Total Pageviews

By Boca Nakstrya and Gologuccha . Powered by Blogger.

 একাকী

মিত্রা হাজরা 



জীবন তো যাতনার ই নাম / আঘাত যত সহা যায়

তত বেড়ে যায়। 

তবু প্রত্যাঘাত ভালো নয়

সহে যাওয়া  ভালো। 

দীপ্ত ইতস্তত চলতে চলতে কথাগুলো বিড় বিড় করছে। মাঝে মাঝে মনে হয় বেঁচে থেকে লাভ নেই। এ পৃথিবী তে সে একা নিঃসঙ্গ। মা তো কবেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছে, তিথি ও তাকে ছেড়ে চলে গেছে।  তার দোষ কোথায়? সে তো আঁকড়ে ধরতেই চেয়েছে সম্পর্ক গুলো, তবু কেমন করে মুঠি আলগা হয়ে সব সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। একটু শান্তির খোঁজে সে চলে এসেছে এই পাহাড়ে ।তবু কিছুই ভালো লাগছে না। 

ঝকঝকে নীল আকাশে সাদা মেঘের পানসী। হঠাৎ দেখতে পেল তাকে---- আনমনে একলা দাঁড়িয়ে কি দেখছে? আশেপাশেও তো কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তার চুল অন্ধকার বিদিশার রাত, আকন্ঠ তৃষ্ণা র দিকে এগিয়ে আসা যেন গোলাপী ঠোঁট ।সেই ঠোঁটে কি বৃষ্টি ছবি আঁকে! কৌতুহলে দীপ্ত একটু এগিয়ে এলো। মুখে  তার মুক্তো দানার মত তরলিত ঢল ঢল আভা। সাদা মেঘের ভেলায় ভাসা উপত্যকায় নাম না জানা মেয়েটি আনমনে দাঁড়িয়ে আছে। একটা রিমঝিম শব্দ পাচ্ছে অনেক ক্ষণ থেকে। লক্ষ পাতার উপর যেন কোটি বৃষ্টি বিন্দু পড়ার রিমঝিম আমেজ। দেখলো সুক্ষ জলকণা উড়ছে চারপাশে। সূর্য রশ্মিতে  সেই জলকণা রামধনু র সাত রঙ নিয়ে বন ময়ূরের পেখম মেলে নৃত্যরত। এতোক্ষণে দেখতে পেল সামনে জলপ্রপাত টা, বুঝলো মেয়েটি বিভোর হয়ে এই জলধারাকেই দেখছে। 

ছবি তুলবে বলে ক্যামেরা টা তাক করতেই--দেখলো মেয়েটা ঘুরে ইশারায় ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে নিষেধ করছে। মানে ছবি তুলতে মানা করছে। তারমানে মেয়েটা দূর থেকে তাকে আসতে দেখেছে। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে মানব কত ক্ষুদ্র প্রকৃতির কাছে। ঐ উড়ন্ত জলকণা মাঝে, এই নির্জন নিস্তব্ধ উপত্যকায় নিজের সীমাবদ্ধতা টের পাওয়া যাচ্ছে। অবর্ণনীয় এ দৃশ্য, এই সৌন্দর্য পারবে না ক্যামেরা  ধরে রাখতে। প্রতিটি ইন্দ্রিয় যেন শুষে নিচ্ছে এ মোহময়তা, প্রকৃতি দুই হাত বাড়িয়ে ভালোবাসার আলিঙ্গনে ছুঁয়ে থাকে,শুধু অনুভব করতে হয়।

খানিক পরে মেয়েটা ঘুরলো --নিচু হয়ে একটা টুকরি তুলে নিয়ে চলতে শুরু করল। দীপ্ত জিজ্ঞাসা করলো --কে তুমি? কোথায় থাকো? মেয়েটা দূরের পাহাড় দেখালো --ওই গ্রামে। ক্ষেত আছে বাবা ফসল ফলায়, ফার্ম আছে, আন্ডা, সবজি দিতে আসে হোটেল গুলোয়। একটু দাঁড়িয়ে যায় প্রপাতের কাছে রোজ, খুব ভালো লাগে। নাম--ধরতী, মিষ্টি হাসল মেয়েটা। বেশ হয়--- এ রকম জায়গায় যদি থেকে যাওয়া যায়!  একটু ছোট ক্ষেত, ঝরণার জল, ছোট একটা কুঁড়ে, আর কী চাই! ভদ্র সমাজের ভন্ডামি আর ভালো মানুষীর মুখোশে ঘৃণা জন্মে গেছে। ওখানেই ঘাস পাথরের উপর লম্বা হয়ে শুয়ে নীলাকাশ দেখতে থাকে একদা আই টি সেক্টরের চোখ ধাঁধানো জীবন কাটানো দীপ্ত বসু। 

0 comments: