সম্পাদকের কলমে

নারায়ণ দেবনাথ- সত্যি বলতে কি একটা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হল। একটা বিশাল বড় অধ্যায়, যেখানে বাবা/ মা, ছেলে/ মেয়ে বা দাদু/দিদা, পিসি, ঠাম্মা সব এক হয়ে গেছিল । চলে গেলেন শরীরের দিক থেকে কিন্তু সারাজীবন রয়ে গেলেন মনে, চোখে আর স্বপ্নে। কার্টুন তাও আবার নিখাদ বাংলা ভাষায়, বাংলা চরিত্র নিয়ে, কিন্তু সেই চরিত্র আবার খুব সাহসী। উনি সাহস দেখিয়েছিলেন বলেই বাংলার ঘরে ঘরে বাঁটুল, হাঁদা-ভোঁদা পৌঁছে গেছে। নারায়ণ দেবনাথ -এর প্রতি #গল্পগুচ্ছ এর পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম । ভাল থাকবেন, যেখনেই থাকবেন। আমরা কিন্তু আপনার দেশেই রয়ে গেলাম । নমস্কার সহ অঙ্কুর রায় সংখ্যার সম্পাদক অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী প্রধান সম্পাদক

লেখা পাঠানোর জন্য

আপনার লেখা পাঠান আমাদেরকে
golpoguccha2018@gmail.com

Total Pageviews

By Boca Nakstrya and Gologuccha . Powered by Blogger.

 ডাওহিলের সেই বৃদ্ধা

 শম্পা চক্রবর্তী

                       
  "   কোথায় পাব তারে? হেথা নয় হেথা নয় অন্য কোথা অন্য কোনো খানে" পাঞ্চ করলাম কিন্তু! 
         ছোটবেলা থেকে এতো ভূতের গল্প শুনেছি যে, তেনাদের সাথে মোলাকাত করার ইচ্ছা বহু দিনের!  আমার বাবা বলেছিলেন যে, তিনি নাকি ঝেরু ভূতের দেখা পেয়েছিলেন, আমার বড়ো পিসির বিয়ে উপলক্ষে বালুরঘাটের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বাঁশঝাড়ের মধ্যে। বাবার সামনে নাকি একটি বাঁশ পড়েছিল! বাবা তখন নতুন ব্রাহ্মণ হয়েছেন, পৈতে জড়িয়ে এমন রাম নাম করেছিলেন যে, সেই বাঁশ নাম মাহাত্ম্যের জন্য সোজা নিজের ঝাড়ে পৌঁছে গেছিল- ভাবা যায়! 
সেই ভূতের নাম নাকি ঝেরু ভূত ; সে বাসা বাঁধে  বাঁশ  ঝাড়ে,তেনারা মানুষ দেখলেই!যাক সে কথা, এখন সে রাম ও নেই আর সেই নামে ভয় পাওয়ার ওনারাও নেই। 
                , আমার সৌভাগ্য হয়েছিল, আমার বাবার ঠাকুমা কে দেখার;সৌভাগ্য বলছি কারণ সেই বুড়ির স্টক ছিল ভূতের অভিজ্ঞতা তে ভরপুর!তাঁর বলা অনেক ভূতুরে অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি ছিল, দ্যাশের বাড়িতে তিনি যখন চার বছর বয়সে কনে বউ অয়ে আইছিলেন ত্যাহন বোশেখ মাসে কালবোশেখীর ঝড়ে আম কুড়িয়ে ছিলেন এক লাল শাড়ি পরা ঘোমটা দেওয়া পেত্নীর সাথে। 
               তো আমি এই সব অভিজ্ঞতা শুনে কতবার যে বাঁশ ঝাড় আর আমবাগানে ঘুরে বেড়িয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু একেই ঘোর কলি তার ওপর বড়ো নাস্তিক তেনাদের দর্শন পাইনি। ডিসেম্বর মাসে মায়ের সাথে দেখা করতে গেলে ভায়ের বৌ রাত বারোটার সময় প্লান করল ঘুরতে যাওয়ার ;তা আমাদের শিলিগুড়ি অঞ্চলের ড্রাইভার বা গাড়ির মালিকেরা তো আমাদের মতো পাগল নয়, যে প্রবল শীতে রাত বারোটার সময় ট্যুর প্লানে বাহবা দেবে! আর আমার ভায়ের পোস্টিং এখন দার্জিলিং এ, রাত বারোটা মানে ওর নিশুতি রাত। ছেলে আমার আর এক কাঠি বাড়া, তার কথায়, "চলো ডাওহিলের ভূতেদের সাথে সাক্ষাৎ করে আসি";আমার অসীম বাবু তো মাটির মানুষ; সর্বদা গৌরী সেনের ভূমিকায়। তো রবিবার সকালে শিলিগুড়ি জংশন থেকে একটি গাড়ি রিজার্ভ করে চললাম কার্শিয়ং;ভাইকে বললাম আসবি? 
                  ভাই বলল, দার্জিলিং এ ওর ঘরে এখন মাইনাসের কাছাকাছি টেম্পারেচার যাচ্ছে, ও ঝকঝকে  কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি পাঠালো;ছয় বছরের ভাইঝি ঠোঁট উল্টে বলল, "আমরা একাই ভূত দেখব"! 
              ৪৫কিমি পাড়ি দিয়ে পৌঁছে গেলাম ডাউহিল;দাজু কে বললাম, আমরা হেঁটেই উঠব,সে যেন গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করে নীচে; ভালোমানুষ দাজু বারবার সাবধান করতে লাগল; যেমন - আমরা যেন একসাথে থাকি,বাচ্চাকে ধরে রাখি ইত্যাদি।যত উপরে উঠতে লাগলাম তত ঠান্ডা বাড়তে লাগল;পাকদন্ডি বেয়ে ডেথ রোড হয়ে উপরে উঠতে উঠতে একসময় দেখি রাস্তা তিন ভাগে ভাগ হয়েছে কোন দিকে যাব বুঝতে পারছিলাম না;দুপাশে গভীর জঙ্গল আর খাদ - নিঝুম রাস্তা ;আমার ছেলে বলল, "দেখ একটি পাখি ও নেই, কুকুর পর্যন্ত নেই কেমন একটি গা ছমছমে অনুভূতি হচ্ছে";আমি বললাম, এতো ঠান্ডার জন্য হয়তো পাখি নেই! ছেলে বলল" তুমি কি জিওগ্রাফিও পড়োনি?ঠান্ডা তে পাখি বা কুকুর থাকেনা? "এবার একটু ভয় ভয় করছিল, একেই তো রাস্তা বুঝতে পারছিনা, তার ওপর এমন কথা! ছেলে বলল "জান এই রাস্তায় না মুন্ডহীন একটি মেয়ে ঘুরে বেড়ায় আর... " ওর মুখ চাপা দিলাম ভাইঝি ভয় পাচ্ছে যে...! নরম শরীর, এই ট্রেকিং এর ধার সহ্য করতে পারে নাকি? তো হাত পা ছড়িয়ে বসে পড়ে টস করতে লাগলাম জয় বীরুর মতো;কোন রাস্তা দিয়ে যাব? 
                  এমন সময় দেখি এক ধূসর চুলের অসংখ্য বলিরেখা বিশিষ্ট বৃদ্ধা কে;জনবিরল রাস্তা তে অন্য একটি মানুষের সন্ধান পেয়ে আমাদের পুলক দেখে কে? যাবতীয় নেপালি ভোকাবুলারি মিশিয়ে পথের সন্ধান জানতে চাইলে, তিনি ঝকঝকে ইংরেজি ভাষায় অভিশপ্ত চার্চ ও ভিক্টোরিয়া বয়েজের পথ নির্দেশ দিলেন। আমরা খুব খুশি হয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে গিয়ে দেখি তিনি নেই। নেই তো নেই আর তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া গেলনা। ভয়ে আমাদের হিক্কা উঠতে লাগলো, ছেলে বলল, ওর বন্ধুরা নাকি কয়েক দিন আগে বাইক নিয়ে এসেছিল, ওদের পথ নির্দেশ করেছিল কয়েকটি কচিকাঁচা কিন্তু পলকের মধ্যে ওরাও মিলিয়ে গিয়েছিল। 
             আর না এ্যাডভেঞ্চার!মোবাইলে হাত এবং কলিং দাজু এবং গাড়ি করেই ভুতুড়ে চার্চ, ভিক্টোরিয়া বয়েজ দর্শন করে;বজরংবলীর কাছে পাপ স্খালন করে ঈগল উদ্যান ভ্রমণ করে ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন। 

0 comments: