সম্পাদকের কলমে

নারায়ণ দেবনাথ- সত্যি বলতে কি একটা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হল। একটা বিশাল বড় অধ্যায়, যেখানে বাবা/ মা, ছেলে/ মেয়ে বা দাদু/দিদা, পিসি, ঠাম্মা সব এক হয়ে গেছিল । চলে গেলেন শরীরের দিক থেকে কিন্তু সারাজীবন রয়ে গেলেন মনে, চোখে আর স্বপ্নে। কার্টুন তাও আবার নিখাদ বাংলা ভাষায়, বাংলা চরিত্র নিয়ে, কিন্তু সেই চরিত্র আবার খুব সাহসী। উনি সাহস দেখিয়েছিলেন বলেই বাংলার ঘরে ঘরে বাঁটুল, হাঁদা-ভোঁদা পৌঁছে গেছে। নারায়ণ দেবনাথ -এর প্রতি #গল্পগুচ্ছ এর পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম । ভাল থাকবেন, যেখনেই থাকবেন। আমরা কিন্তু আপনার দেশেই রয়ে গেলাম । নমস্কার সহ অঙ্কুর রায় সংখ্যার সম্পাদক অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী প্রধান সম্পাদক

লেখা পাঠানোর জন্য

আপনার লেখা পাঠান আমাদেরকে
golpoguccha2018@gmail.com

Total Pageviews

By Boca Nakstrya and Gologuccha . Powered by Blogger.

কবীর মন্দির : বারাণসীর অনালোকিত দ্রষ্টব্য


Image may contain: one or more people, people walking, sky and outdoor

Image may contain: sky and outdoor

Image may contain: 1 person, tree, plant, outdoor and nature

' সাঁই কে সব জীব হ্যায় , কিদী কুঞ্জর দয়ে।
কা পর দয়া কিজিয়ে , কা পর নির্দয় হোয়ে ।। '
- এ হল আমার তীর্থদর্শন । ফেলুদার ভাষায় বলতে গেলে : কাশীতে সবাই বিশ্বনাথের মন্দির দেখে , কবীর মন্দির আর কজন দেখে ?
#কবীর মন্দির, কবীরচৌরা
#সন্তকবীর - মধ্যযুগে ভারতাত্মার প্রতীক । হিন্দু ঘরে জন্ম কিন্তু তিনি হিন্দু নন । মুসলমান ঘরে তাঁর বেড়ে ওঠা কিন্তু তিনি মুসলমান নন । তিনি মানুষ। তিনি চিরন্তন ভারত ।
পালক পিতার মত কবীর ও ছিলেন পেশায় তন্তুবায়। তাঁত বোনার ফাঁকেই তাঁর মনে জাগে প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়ে তাঁত চালাতে চালাতেই তাঁর তত্ত্ব আলোচনা ।
গুরুহীন কবীর শিষ্যত্ব নেন ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম দিকপাল স্বামী রামানন্দের । রামানন্দের শ্রেষ্ঠ শিষ্য কবীর ক্রমে হয়ে ওঠেন মধ্যযুগে ভক্তি আন্দোলনের পুরোধা পুরুষ । তাঁর জীবন নিয়ে প্রচলিত অসংখ্য জনশ্রুতি প্রমাণ করে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা।
যুক্তিবাদী কবীর ছিলেন সমস্ত অন্ধ সংস্কারের ঘোর বিরোধী । এমনকি আসন্ন মৃত্যুর সময় ও যুক্তিতে স্থিত কবীর তাঁর শেষ নিঃশ্বাসের স্থান বেছে নিয়েছেন কাশী থেকে দূরে , মগহরে । কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন না কাশীতে মৃত্যু হলেই স্বর্গপ্রাপ্তি হয় ।
নির্গুণ ঈশ্বরের উপাসক কবীর ব্রাহ্মণ - দলিত , হিন্দু - মুসলমানের কোন ভেদাভেদ করতেন না। আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক কবীর তাঁর মৃত্যুর পরেও হিন্দু মুসলমানের সম্প্রীতির বার্তাই দিয়েছিলেন। এ নিয়ে আছে এক আশ্চর্য , অলৌকিক কাহিনী ।
গুরু নানক, রবিদাস , তুলসীদাস , দাদ্দু থেকে শ্রীচৈতন্য এবং আধুনিক সময়ে মহাত্মা গান্ধী থেকে রবীন্দ্রনাথ সকলেই তাঁর শিষ্য বা তাঁর দ্বারা প্রভাবিত। গুরু গ্রন্থসাহিবে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক দোঁহা আছে কবীর সাহেবের।
যদিও তিনি চাননি তৈরী করতে কোন পৃথক সম্প্রদায় , তবু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্যরা তাঁর শিক্ষাকে পাথেয় করে ঐক্যবদ্ধ হন। তাঁর পথ কবীরপন্থ নামে পরিচিত হয়। আজও মূলতঃ উত্তর ভারতে কয়েক লক্ষ কবীরপন্থী আছেন। তাঁর ভাবধারা ছড়িয়ে পড়েছে দেশে বিদেশে।
কবীরের শিক্ষা ধারণ করে আছে তাঁর তাৎক্ষণিক মুখে মুখে রচিত অসংখ্য দোঁহা । তাঁর দোঁহাগুলিকে বলা হয় বীজক । দেশ কাল ভাষার সীমা ছাড়িয়ে বীজক আজও প্রাণময় , প্রাসঙ্গিক।
আচার্য ক্ষিতিমোহন রবীন্দ্রনাথকে পরিচয় করিয়ে দেন কবীরের দোঁহার সাথে । দোঁহাগুলির গভীর অর্থময়তা বুঝতে ভুল হয়নি বিশ্বকবির। নিজস্ব জীবনদর্শনের সাথে খুঁজে পান আশ্চর্য সাযুজ্য । গভীর মুগ্ধতায় ঋষিকবি অনুবাদ করেন সন্তকবির কবিতা।
আজ সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা যখন গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে এই বিবিধের মাঝে মিলন মহানের আদর্শকে তখনও কবীর তাঁর কালোত্তীর্ণ বীজক তাঁতে মানুষের মনে বয়ন করে চলেছেন ভালোবাসার এক অলৌকিক বেনারসি।
সন্ত কবীর : জ্ঞান ও ভক্তির , সৌহার্দ্য ও বিশ্বাসের এক চিরভাস্বর আলোকবর্তিকা । তাঁকে জানাই প্রণাম ।


0 comments: